গাজীপুরে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবীতে অপহরণ করে শিশু খুন, গ্রেফতার ১

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ি পারিজাত এলাকায় দুই ভাড়াটিয়া প্রতিশোধ নিতে বাড়ির মালিকের ৫ বছর বয়সিকে এক শিশু সন্তানকে হত্যা লাশ গুম করে। পরে দ্রুত ধনী হওয়ার লোভে অপহরণের নাটক সাজিয়ে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে র্যা ব-১ এর সদস্যরা শনিবার রাতে এক অপরহরণকারীকে আটকের পর তার দেয়া তথ্যমতে শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত শিশু আলিফ হোসেন (৫)গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ি পরিজাত এলাকার বাড়ীর মালিক মোঃ ফরহাদ হোসেনের ছেলে।

অপহরণ ও হত্যায় জড়িত থাকায় আটক সাগর (১৯) নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ পদিপাড়া রফিক উল্লাহ ছেলে। সে ফরহাদের বাড়ির ভাড়াটিয়া এবং পেশায় গার্মেন্টশ্রমিক।

রবিবার দুপুরে ব্যাব-১ এর গাজীপুরের পোড়াবাড়ি ক্যাম্পে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।

র্যা ব জানায়, গত ২৯ এপ্রিল বিকলে আলিফ হোসেন তার নিজবাসা হইতে নিখোঁজ হয়। নির্খোঁজের পর তার পরিবার সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখোজি করেনা পেয়ে কোনাবাড়ি থানায় জিডি করেন। নিখোঁজের পরদিন ভিকটিমের বাবার মোবাইল ফোনে অজ্ঞাতনামা নম্বর থেকে ফোন আসে এবং তার শিশু সন্তানকে তারা অপহরণ করেছে জানিয়ে ২০ লক্ষটাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অন্যথায় অপহরণকারীরা তার ছেলেকে হত্যা করে লাশ গুম করবে বলে হুমকি দেয়। পরে গত ২ মে ভিকটিমের পরিবার র্যা ব-১ গাজীপুর পোড়াবাড়ী ক্যাম্পে গিয়ে অপহৃত ছেলের মুক্তির জন্য আইনগত সাহায্য কামনা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদে জানতে পারে ওই অপহরণকারীরা গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল এলাকায় মুক্তিপণের টাকা বিকাশের মাধ্যমে নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। পরে কোম্পানী কমান্ডার লেঃ কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পূবাইল রেল লাইন এলাকা থেকে সাগরকে আটক করা হয়। তার দেয়া তথ্যমতে তাদের ভাড়াকৃত ফ্ল্যাটের একটি ঝুটের গুদামের ভিতর থেকে আলিফ হোসেনের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

র্যা ব আরো জানায় আটক সাগরের ভাষ্য মতে, সে পেশায় গার্মেন্টস কর্মী। তারা তিন বন্ধু মিলে একই রুমে গত ৬ মাস যাবৎ ভিকটিমদের বাড়ির ৩য় তলার ফ্লাটেবাসা ভাড়া থেকে গার্মেন্টসে চাকুরী করে আসছে। ভবনের ছাদে উঠে মেয়েদের ডির্স্টাব করার কারণে গত এক সপ্তাহ আগে বাসার মালিক ভিকটিমের বাবা সাগরের রুমমেট জুয়েল আহমেদ ওরফে সবুজকে কয়েকটি চড়-থাপ্পর দেন। এ থাপ্পর মারার প্রতিশোধ নিতে ও দ্রুত ধনী হওয়ার স্বপ্নে সবুজ ও সাগর মিলে ভিকটিমকে হত্যা করে লাশ গুমকরে। পরে অপহরণের নাটক সাজিয়ে ভিকটিমের বাবা নিকট ২০ লক্ষ মুক্তিপণ দাবি করে।

সাগর র্যা বকে জানায়, পূর্ব পরিকল্পনা সাগর ও জুয়েল ২৯ তারিখ বিকেলে পরিবারের সকলের দৃষ্টির আড়ালে বাসা থেকে আলিফকে ছাদে নিয়ে যায়।পরে সেখানে আলিফকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশটি একটি প্লাষ্টিকের বস্তার ভিতর ভরে বাসার ঝুটের গুদামে রাখে। ওই রাত তারা ভাড়াবাড়িতে যাপন করে সকালে ঢাকায় চলে যায় এবং মোবাইলে অপহরণের কথা জানিয়ে ২০ লাখ টাকা দাবি করে ও ভিকটিম এর পরিবারকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে নগদ ২০ লক্ষ টাকা নিয়ে আসতে বলে। । এদিকে ফরহাদ হোসেন গত তিনদিন অপহরণকারীর কথামত টাকা নেয়ে গোপনে উত্তরা, আব্দুল্লাপুর, টঙ্গী বাজার, স্টেশন রোড, গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় ছেলেকে ফিরে পাবার জন্য ঘোরাঘুরি করে। অবশেষে মুক্তিপনের টাকা বিকাশে লেনদেনের পূবাইল রেলস্টেশন এলাকা থেকে সাগরকে আটক করা হয়।